জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ, জাতীয় নাগরিক পার্টি’র যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের খবরটি তিনি তার ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করেন। বঙ্গচোখ-এর পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক পোস্টেটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আমার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রসঙ্গে: ২০১৫ সাল, শাহবাগ তখন দোর্দন্ডপ্রতাপ বিজয়ী হেজেমন।
News Just In
View Moreবাংলাদেশ
আরো দেখুনজুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ, জাতীয় নাগরিক পার্টি’র যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের খবরটি তিনি তার ফেসবুক পোস্টে শেয়ার…
আন্তর্জাতিক
আরো দেখুনবিদ্যা ও বিত্তের প্রাচুর্যে ভরা এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মুনীর চৌধুরীর জন্ম (১৯২৫) হয়েছিল। তার পুরো নাম ছিল আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। চৌদ্দ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান। পিতা আব্দুল হালিম চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান শাসনামলের জেলা প্রশাসক; পড়াশোনা করেছিলেন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে। পুত্র মুনীর চৌধুরীকেও তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়েছিলেন; আশা ছিল পড়াশোনা শেষ করে এই ছেলেটি বড় ডাক্তার হবে। কিন্তু না, তিনি ডাক্তার হোননি। বিজ্ঞান পড়ায় তার মন বসতো না; শিল্প—সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিকে তার মনটা কম্পাসের কাটার মতো হেলে থাকতো। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল লাইব্রেরি তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতো। এই লাইব্রেরিতে বসেই তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে জর্জ বার্নাডশ থেকে শুরু করে বিশ্বের নামিদামি লেখকের সাহিত্যকর্ম অধ্যয়ন করতেন। এমনকি উর্দু সাহিত্যও তার পাঠের বাইরে ছিল না। কিন্তু দুটি পত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই মুনীর চৌধুরী একসময় ঢাকায় ফিরে আসেন এবং আইএ পড়ার জন্য কলেজে ভর্তির চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। ইতোমধ্যে বন্ধুদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার সংবাদ পান। অতঃপর মুনীর চৌধুরী বড় ভাই কবীর চৌধুরীর (১৯২৩—২০১১) পদাঙ্ক অনুসরণপূর্বক তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হোন। এই বিভাগ থেকেই তিনি ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হোন (১৯৪৭)।২ছাত্রজীবনে মুনীর চৌধুরী সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবন থেকেই তার মেধার স্ফূরণ ঘটতে থাকে। বিদ্যায়তনিক লেখাপড়াসহ সামাজিক—সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, উপস্থিত বক্তৃতা, পত্রপত্রিকায় গল্প, প্রবন্ধ ছাপাসহ নানামুখি কর্মকাণ্ডে মুনীর চৌধুরী সুনাম ও সুখ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় মুনীর চৌধুরী কমিউনিস্ট রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হোন। আবাসিক শিক্ষার্থীরা নাস্তিক আখ্যা দিয়ে সব জিনিসপত্রসহ মুনীর চৌধুরীকে হল থেকে বের করে দেয়। এমনকি এই একই অভিযোগে তার জন্মদাতা পিতা আবদুল হালিম চৌধুরীও পুত্রকে পরিত্যাজ্য ঘোষণা করেন। তাই বলে পুত্রের প্রতি তার স্নেহের কমতি ছিল না। তিনি নিজে সরকারি চাকরি করতেন। তার নিজেরও নিজস্ব কিছু মতাদর্শ ছিল। সেই মতাদর্শের সঙ্গে হয়তোবা পুত্রের মতাদর্শ মেলেনি। তাই পিতাপুত্রের এই নিদারুণ বিচ্ছেদ। সেই বিচ্ছেদ খুব বেশি সময় দীর্ঘায়িত হয়নি। সক্রিয় রাজনীতি পরিত্যাগ করলে পিতা পুনরায় মুনীর চৌধুরীকে গ্রহণ করে নেন।৩কর্মজীবনের প্রথমদিকে মুনীর চৌধুরী বরিশাল বিএম কলেজ ও জগন্নাথ কলেজে অধ্যাপনা (১৯৫০) করেন। খুব দ্রুতই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হয়ে আসেন। এই সময়ে ভাষা আন্দোলনে পূর্ব বাংলার রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে। উদুর্কে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে ২১শে ফেব্রুয়ারি (১৯৫২) শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এলে পাক সামরিক সরকার মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণ করে ছাত্রদের হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। ঐ প্রতিবাদ সভার উদ্যোক্তা ছিলেন শহিদ মুনীর চৌধুরী। ঠিক পাঁচদিন পর জননিরাপত্তা আইনে সামরিক সরকার মুনীর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। এসময় সহরাজবন্দিদের মধ্যে ছিলেন মোজাফফর আহমদ, অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, অজিত কুমার গুহ, মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ, শেখ মুজিবুর রহমান, রণেশ দাশগুপ্তসহ আরো অনেকে। পরের বছর ১৯৫৩ সনে রাজবন্দিরা জেলখানায় একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। অপরাপর রাজবন্দির পরামর্শে রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে জেলখানায় অভিনয় উপযোগী একটি নাটক লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। রাত দশটার পর হারিকেন জ্বালিয়ে যে সব ছাত্রবন্দিরা পড়াশোনা করতো সেই সব হারিকেন দিয়েই নাটকটি মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অতঃপর মুনীর চৌধুরী হারিকেনের আলোয় অভিনয়ের উপযোগী একটি একাঙ্ক নাটক ‘কবর’ রচনা করলেন; সৃষ্টি হলো ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা নাট্যসাহিত্যের এক অনন্য দলিল। এই নাটকে দাফন করা ব্যক্তিকেও কবরের ভেতর থেকে ওপরে উঠে আসতে দেখা যায়, দেখা যায় কথা বলতে।৪কেন্দ্রীয় কারাগারে বসেই মুনীর চৌধুরী বাংলায় এমএ…
ছেলের বাবা বললেন, এক হাতে যৌতুকের টাকা আরেক হাতে ছেলে। নইলে— না। মেয়ের বাবা যতোটা অনুনয়ে অনুযোগ প্রকাশ পায়, তার সাধ্য সাধনায় নিজেকে ক্ষুদ্রতম প্রতিপন্ন করতে বিলীন হয়ে বললেন, দেখুন- এতোটা নির্দয় হলে চলে না। ঠাণ্ডা মাথায় একটু ভাবুন, এক্ষেত্রে আমার এতোটকু দোষ খুঁজে পাবেন না। হরতালটা এমন অকস্মাৎ ঘটবে কে তা জানতো বলুন? নইলে মাত্র পঁচিশ লক্ষ টাকা সে ব্যাংক থেকে যখন তখন তুলতে পারতাম। কিন্তু এখন তো ব্যাংক তো বন্ধ। তবে ভাববেন না। আগামিকাল নয়টার মধ্যেই পুরোটা পেমেন্ট দেবো আপনাকে। ছেলের বাবা উচ্চ স্বেও হেসে বললেন, শুনুন— আমাদের বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে ‘আজ না কাল, না দেবার তাল’। তা আমার এতো বেশি কথার প্রয়োজন নাই। আমি সোজা মানুষ সোজা বুঝি। শুনুন— শৈশব থেকেই আমি বস্তুবাদী লোক। বিশ্বাসের সঙ্গে আমার এতোটুকুও সখ্যতা নেই। বরং বিশ্বাসের হেয়প্রতিপন্ন রূপ, আমি আমার জন্মদাতা পিতৃপুরুষকেও দেখিয়ে দিতে কার্পণ্য করিনি। তাতে অন্য বাবাদের মতো বাবা আমাকে আহ্লাদে ‘চামার’ সম্বোধন যদিও করেন নি, তবে পৈতৃক সম্পদ রক্ষায় আমার যোগ্যতাকে মৃত্যুর কিছু পূর্বে, লক্ষ টাকার পালঙ্কের মখমলের চাদরে শুয়ে এক নম্বরে রেখেছিলেন। বাবার পরকালটা আনন্দে কাটুক আমিও চাই। কিন্তু আমি আবার বাকির লোভে নগদ পাওয়া মোটেই ছাড়তে রাজি নই। যাক! আর কথা নয়, এবার টাকা দিন আর বিয়েটাও হোক। কিন্তু দয়া করে আমাকে বিশ্বাস অবিশ্বাসের মধ্যে টানবেন না। আমি জানি, এই বিশ্বাস শব্দটা শেষে অদেখা ঈশ্বর পর্যন্ত টেনে নেবে, সেটা আমার অভিপ্রেত নয়।মেয়ের বাবার সব ভাষাই ফুরিয়ে গেল। তবে অন্তরের শেষ জ্বালাটা মেটানোর জন্য তিনি ধরা গলায় বললেন, বুঝতে পারলাম! আপনি শুধু নিরসই নন, বরং পাষাণও বটে। ছেলের বাবা কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে বললেন, কিন্তু আমার দুঃখটা কি জানেন? এতো বড়ো বিচক্ষণ জ্ঞানী সমঝদার হয়েও বুঝতে পারলেন না, হাঁড়িতে রস দেবার পরিবর্তে কাঁটা ফোটানোর উদ্দেশ্যে দাঁত খিঁচানো সহজাত ধর্মের পরিপন্থি?আর ও হ্যাঁ, আরো একটা কথা বলেছেন, আমি নাকি পাষাণ! কিন্তু কেন তা হয়েছি তা একবার জানতে চাইবেন না। মেয়ের বাবা উদগত ক্ষোভ অব্যাহত রেখে বললেন, বুঝতে তো পেরেছি- আপনার ফোকলা মুখে কিছুই আটকাবে না। তবু বলুন না। অপেক্ষা কিসের?ছেলের বাবা বললেন— না— না। বলবো তো অবশ্যই। কারণ সত্য কথা বলতে আমি সংকোচ বা সম্ভ্রমের ধার মোটেই ধারি না। শুনুন তবে ছেলে আমার ডাক্তারি পাশ দিয়ে বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। ব্যাপারটা সহজে হয় নি। আমার মধ্যে যতোটা রস ছিলো ছেলেকে পড়াতে নিঃশেষ হয়ে হৃদয় নামের বস্তুটা শুকিয়ে পাষাণই হয়েছে বটে। আর এটা আমার বিশেষভাবে প্রত্যাশিত। একটা কথা বলে রাখি। আমাকে কাঁটা ফোটানোর চেষ্টা করবেন না। কারণ ফলটা কিন্তু ভালো হবে না। আমি আবার জেতার ব্যাপারে বেফাঁস কিছু বলতেও কসুর করি না।মেয়ের বাবা বললেন— শুনে খুশি হলাম যে, ভদ্র সমাজের পরিত্যাজ্য উচ্ছিষ্টই আপনার কাছে যথেষ্ট সমাদৃত। বললেন ফল ভালো হবে না! কী করে আর হবে বলুন? গাছের জাতটা যদি বিষের হয়, তার ফলটা আর কি করে অমৃত হয় বলুন? ঠিক আছে আর ফল ফল করে বিফল চিন্তায় আমার কাজ নেই। এবার সসম্মানে বেড়িয়ে গেলেই ভালো হয়। ছেলের বাবা উচ্চস্বরে বরযাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলল— হে মেন সবাই চলে এসো। বাবার আদেশকে উপেক্ষা করার দুঃসাহস না দেখিয়ে বরও বরযাত্রীদের সঙ্গে বেড়িয়ে গেল।গবার শেষে ছেলের বাবা গেট পাড় হওয়ার পূর্বে মেয়ের বাবাকে উদ্দেশ্য করে চাপা কণ্ঠে বিদ্রুপের সুরে বলল— ফাঁকি দিয়ে আমার ছেলের গলায় মেয়েটাকে ঝুলিয়ে দেওয়ার জোচ্চুরিটা শেষ পর্যন্ত…
অবিনাশ দাসেরই ডোম হিসাবে শুধু নিয়োগ রয়েছে। সরকারি হাসপিতালের ডোম সে। বেতন মাসিক কুড়ি টাকা। এই টাকা ট্রেজারি অফিস থেকে তোলার নিয়ম। সরকারি কর্মচারিরা মাস শেষে বেতন ভাতাদি তোলেন। তার তোলা হয় না। মাসের পর মাস সরকারি খাতায় তার টাকা জমা হয়। জমা হয় বছরের পর বছর। জেলা অফিসের লোকজন অবিনাশ দাসের বেতন বিল করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় না। কুড়ি টাকার চেক করা বেশ ঝামেলার। অবিনাশ দাসের বাবা ছিলেন সুনীল দাস। তিনিও পুরো জীবন এই পদে মাসিক দশ টাকা বেতনে চাকুরী করে গেছেন। তার টাকাও তোলা হয়নি। রাষ্ট্রের কোষাগারে কত সব লাওয়ারিশ টাকার মিল ও গড়মিল হিসাবে ঐ টাকাগুলোর খোঁজ কারোর জানা থাকে না। অবিনাশ অবশ্য বাবার মৃত্যুর পরে কিছুদিন অফিসে ঘোড়াঘুরি করে দেখেছে। বাবার নামে জমে থাকা টাকা গুলো তোলার জন্য। সরকারি অফিস থেকে টাকা তোলা সহজ কাজ নয়। প্রচুর ঝামেলার কাজ। মুখের কথায়তো আর টাকা দেবে না। এ জন্য কাগজপত্র চাই। দনিয়ার কাগজপত্র। তারপর এটেবিল ওটেবিলে দৌড়াদৌড়ির ব্যপার আছে। তাবৎ জীবনের বকেয়া বেতন তুলতে অফিসের কয়েকজন গম্ভীর মুখে বকশিশ দাবি করে বসে। অবিনাশ বাংলা মালের গন্ধ ছড়িয়ে উপরের পাটির দাঁত বের করে বলে, ছার, বাপের বেতনই ছিলো মাত্তর দশ ট্যাহা, বকশিশ কত দিবো? অবিনাশের মুখের অনিয়ন্ত্রিত বেয়ারা ধরনের থু থু ও মদের কটু গন্ধ তাদের নাকে থাপ্পর মারে। তারা মুখ ঘুড়িয়ে নেয়। কপাল ঘুচিয়ে বিকৃত স্বরে বলে, রাবিশ! একজন ডোমের সাথে সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তাদের আচরণ কতটা আপত্তিকর বা অসমমান জনক তা এই সময়ের সমাজ ব্যবস্থার শিক্ষিত মানুষেরাও আন্দাজ করতে পারবেন না। অবশ্য অবিনাশ এতে ব্যথিত হয়নি। শিক্ষিত শ্রেণির লোকজনের আচরণের কারণে তার মন ব্যথিত হয় না। এরা হলেন দেবতা। দেবতাদের দোষ নেই। কয়েকদিন এ টেবিল ও টেবিল ঘোড়াঘুরি করে সময় আর শ্রম অপচয় হচ্ছে এই বিবেচনায় বেতনের টাকাটা তুলতে যায়নি। অবিনাশের ঠাকুরাদা কালিপদ দাশ ডোম ছিলেন। সাতচলি¬শের দেশ ভাগের সময় ঐ পদে তার বেতন ছিলো পাঁচ টাকা। বাবার মুখে শুনেছে সেও বেতন তুলতে পারেনি।তাদের সংসার চলে মানুষের লাশ পেলে। অপমৃত্যুর লাশ। বেওয়ারিশ লাশ। হাসপিতালে যে লাশ নিয়ে আসা হয় সেই লাশ থেকে। মর্গে সেই লাশ এরা তুলে আনে। ধাঁরালো ছুরি দিয়ে কাঁটে। তারপর সেলাই করে লাশটিকে ভালো করে প্যাকেট করে তুলে দেয় আত্মীয় স্বজনদের কাছে। আত্মীয় স্বজনেরা বকশিশ দেয়। বকশিশের টাকায় চলে সংসার।মেডিক্যাল কলেজের এই মর্গটিতে কত রকম মানুষ লাশ হয়ে আসে। ধর্ম কর্মের বিচার কি আর লাশের শরীরে লেখা থাকে? লাশ বড় কঠিন জিনিস। মানুষ আলাদা হতে পারে কিন্তু তাদের লাশ একই রকম। লাশের উপরের পোশাক দেখে বোঝা যায় মানুষটি ধনী না গরিব শ্রেণীর। তবে লাশটির শরীর থেকে যখন কাপড় চোপর খুলে নেয়া হয় তখন কিছুই বোঝা যায় না।গরীব শ্রেণীর লাশের আত্মীয় স্বজনও হয় গরিব শ্রেণীর। গরিব মানুষের টাকা নেই কিন্তু ক্রন্দণ থাকে প্রবল। এরা লাশ নেয়ার সময় বকশিশের কথা শুনে হতাশ মুখে তাকায়। একজন মাতাল মরা মানুষটাকে কাঁটাছেড়া করে বকশিশ চাচ্ছে। মানুষটার কী হালটাই না করেছে। আহা! মরা মানুষের শরীরটাকে নিয়ে এসব করে কী লাভ? স্বজনেরা আহত চোখে কাঁদতে থাকে। ভ্যানে লাশটাকে তুলে অবিনাশ দাসকে বলে, টাকা নাই। টাকা পামু কই! অবিনাশ অসহায় সর্বশ্ব হারানো এই সব বঞ্চিত শোকাহত স্বজন শ্রেনীর মানুষের ব্যথা অনুভব করে দ্বিতীয়বার আর উচ্চারণ করে না বকশিশের টাকা! পুরো শ্রমটাই মাটি হয়ে যায়।ধনী শ্রেণীর লাশ থেকেও যে ভালো বকশিশ আসে, তাও না।…